1. admin@dipanchalnews.com : dipanchalAd :
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বরগুনায় সংবাদ সম্মেলন বরগুনার নব নির্বাচিত সাংসদ টুকুকে সংবর্ধনা দিলেন কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নবাসী বামনায় চেয়ারম্যানের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন তালতলীতে অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনার দায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড বরগুনার অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নোটিশ নির্বাচনী পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে বামনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ বরগুনায় স্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের সুনাম নষ্ট করতে মরা মুরগী বিক্রির ভিডিও তৈরী করা হয় মোটরসাইকেল চলাচলে নতুন নীতিমালা পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া ফেরির একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার

২৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ

  • Update Time : রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৭২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হলো। গত ৭ অক্টোবরের পর থেকেই অবরুদ্ধ উপত্যকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞের পরও শিগগির এ যুদ্ধ নিরসনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা এই যুদ্ধকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৪৩ জন নিহত এবং ৬০ হাজার ৩১৭ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলে নিহত হয়েছেন এক হাজার ৩০০ জনের চেয়েও বেশি মানুষ। গাজার মোট দালানের ৪৫ থেকে ৫৬ শতাংশ ধ্বংস অথবা বড় আকারে ক্ষতির শিকার হয়েছে। গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৫টি আংশিকভাবে কার্যকর রয়েছে। বাকি ২১টির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ আছে। ব্যাপক আকারে ক্ষুধা ও অনাহারে ভুগছেন পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনি। গাজার ৬৯ শতাংশেরও বেশি স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৪২টি মসজিদ, ৩টি গির্জা ও ১২১টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে ছয় লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী। ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ১৮ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরাইলের উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্ত থেকে দুই লাখ ৪৯ হাজার ২৬৩ ইসরাইলি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পশ্চিম তীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক হাজার ২০৮ ফিলিস্তিনি।
বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ : এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থি ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা গাজায় ইসরাইলের আক্রমণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধ ১০০ দিনের মাইলফলক অতিক্রমের কাছাকাছি হওয়ায় এবং ভূখণ্ডটিতে ইসরাইলের আক্রমণ বন্ধের দাবিতে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে শনিবার অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসরাইলের কট্টর মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা পাঠাতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে হাজারও জনগণ জড়ো হয়েছিল। ইসরাইলের মিত্র এই দেশটি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। মালয়েশিয়ায় এই প্রতিবাদ—বিক্ষোভ ও আন্দোলন কয়েক ডজন এনজিওর সহযোগিতায় সংগঠিত হয়েছে। তারা বলেছে, গাজায় যে নৃশংসতা চলছে সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই কেবল তাদের লক্ষ্য নয়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্বের ইতিহাস সম্পর্কেও মানুষকে জানাচ্ছেন তারা।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় মার্কিন দূতাবাসের বাইরেও হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে শনিবার বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের সময় তারা ইন্দোনেশিয়ান এবং ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান এবং হাতে রাখা প্ল্যাকার্ডে ‘ইসরাইলকে বয়কট করো’ এবং ‘এখনই যুদ্ধবিরতি করো’ লেখা ছিল। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। আল জাজিরার ফাহমিদা মিলার বলেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের মধ্যে অনেকেই গাজায় সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছেন। কারণ এই দেশটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলকে হাজার হাজার টন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, আর সেগুলোই কার্যত ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর বোমাবর্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট, স্যাংকশান আন্দোলনের নেতা রোশান দাদু বলেছেন: ‘গাজার জন্য যুদ্ধবিরতি এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে থাকব।’ এদিকে লন্ডন, প্যারিস, ভিয়েনা, বার্লিন, আম্মান এবং ওয়াশিংটন ডিসি—সহ বিশ্বের বহু দেশের রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ হয়েছে। লন্ডনে বিক্ষোভ—মিছিলে যোগদানকারী প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টের সদস্য জিনাইন হুরানি বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা গাজায় অবিচারের জন্যক্ষুব্ধ এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের জন্য বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সেন্ট্রাল লন্ডনের ব্যাংক জংশনে হাজার হাজার লোক শনিবার জড়ো হয়েছেন বলে প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন (পিএসসি) জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে যোগ দেন। এদিকে প্রায় ১৭০০ পুলিশে কর্মকর্তা লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন বলে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গাজার সাথে সংহতি প্রদর্শনকারী বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি এবং ইয়েমেনে মার্কিন ক্রমবর্ধমান হামলা বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছেন। আল জাজিরার সংবাদদাতা কিম্বার্লি হ্যালকেট ওয়াশিংটন ডিসি থেকে জানিয়েছেন, ‘আমরা নভেম্বরে মনে রাখব,’ বলে সেস্নাগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তার ভাষায়, ‘এখানে প্রচুর ক্ষুব্ধ মানুষ তাদের কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছেন। আর অবশ্যই এটি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জন্য শুভ হবে না।’ এছাড়া শনিবার বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো ভারতে হায়দ্রাবাদ শহরে এবং শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর কোল্লুপিটিয়া এলাকায়ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি রোমহর্ষক : ক্ষুধার্ত মানুষ এবং মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে আছে: এভাবেই উত্তর গাজার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন ছিটমহলে ত্রাণ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
‘সাম্প্রতিক দিনগুলিতে যে সহকর্মীরা উত্তরে গিয়েছেন তারা সম্পূর্ণ ভয়ঙ্কর দৃশ্য বর্ণনা করেছেন: রাস্তায় পড়ে রয়েছে লাশগুলো। অনাহারের স্পষ্ট লক্ষণ সহ লোকেরা বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু পেতে পারে তার সন্ধানে ট্রাক থামিয়ে ভিড় করে,’ মার্টিন গ্রিফিথস, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি—জেনারেল ফর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স এবং জরুরী ত্রাণ সমন্বয়কারী, শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের বলেছেন।
‘এমনকি যদি মানুষ বাড়ি ফিরতে সক্ষমও হয়, তবে অনেকের কাছে আর যাওয়ার জন্য বাড়ি নেই,’ তিনি বলেছিলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ইতিমধ্যেই তাদের ধারণ ক্ষমতায় চেয়ে অনেক বেশি লোককে আবাসন দিচ্ছে। খাদ্য ও পানি ফুরিয়ে যাওয়ার ফলে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে, তিনি বলেন, যখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ‘ধ্বংস অবস্থায়’। মহিলারা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম এবং শিশুরা টিকা নিতে পারছে না, সংক্রামক রোগের ঘটনা বাড়ছে এবং লোকেরা হাসপাতালের উঠানে আশ্রয় চাইছে, তিনি বলেছিলেন।
বৃহস্পতিবার, জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের কার্যালয় বলেছে যে, ইসরাইল উত্তর গাজায় প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু ইসরাইল জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার বিরুদ্ধে যথেষ্ট কাজ না করার এবং অগ্রগতি ‘থমকে যাওয়ার’ অভিযোগ করেছে। একটি কঠোর সমালোচনায়, গ্রিফিথস বলেছিলেন যে, তার দলের মানবিক কনভয়গুলোকে উত্তরে পাঠানোর প্রচেষ্টা ইসরাইলের ‘বিলম্ব, অস্বীকার এবং অসম্ভব শর্ত আরোপের জন্য বিঘ্নিত হয়েছে,’ যখন ‘মানবতাবাদী বিজ্ঞপ্তি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধার অভাব সাহায্যের প্রতিটি প্রচেষ্টাকে বাধা দেয়।’ ছিটমহলের অন্যান্য অংশে মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রচেষ্টাও খারাপভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ‘খান ইউনিস এবং মধ্যবর্তী এলাকায় আমাদের প্রবেশাধিকার অনেকাংশে অনুপস্থিত,’ তিনি বলেছিলেন। সূত্র : আল—জাজিরা, রয়টার্স, সিএনএন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme